বিদেশী প্রকৌশলী এনে ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্ভব নয় : কায়কোবাদ
জাপান, তাইওয়ান, কোরিয়া-সহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষতা ও বৈশ্বিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রযুক্তিপ্রাণ ড. মোহাম্মাদ কায়কোবাদ। তরুণদের কেবল শুধু কম্পিউটার থাকলেই চলবে না; এর সাথে সংযোগ থাকতে হবে ও দক্ষতাও অর্জন করতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বুয়েটের সিএসই বিভাগের এই অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।
তিনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার এখনকার রূপ হল “ডিজিটাল বাংলাদেশ”। এই ডিজিটাল বাংলাদেশ আমাদের নিজেদেরকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বিদেশ থেকে কম্পিউটার এবং যন্ত্রাংশ কিনে, সফটওয়্যার কিনে, বিদেশের প্রকৌশলীদের বাংলাদেশে এনে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বিদেশী পরামর্শক ব্যয়বহুল তাই দেশে যদি দক্ষতা বাড়ানো যায় তবে সেটা অধিক ফলপ্রসূ হতে পারে।
বুধবার (১ জুলাই) “ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)” বিষয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি কাজে দেশের দক্ষতা বা স্কিল ব্যবহার শুরু হয়েছে। আমাদের যে জনশক্তি আছে সেটাকে আরো প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলে যদি আমরা আগামী দিনের পথ গুলো দেখতে পারি তাহলে আমাদের যে কাঙ্খিত স্বপ্ন “২০৪১ সালে উন্নত বিশ্ব” সেটা আমরা অর্জন করতে পারব বলে মনে করি। সেই লক্ষ্যে আমাদের সবাইকে একসাথে আগাতে হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে “উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইডিয়া প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বিসিসি এর নির্বাহী পরিচালক পার্থপ্রতিম দেব বলেন, একটি স্মার্ট সিটি বা একটি স্মার্ট পরিবেশ তৈরি করতে আইওটি এর অবদান অপরিসীম। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীগণ আইওটি সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারবে বলে তিনি আশাবাদী।
দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণটিতে রিসোর্স পারসন হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) এর সহযোগী অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের প্রফেসর ড. এ. বি. এম. আলিম আল ইসলাম এবং বন্ডস্টেইন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল শেপার মীর শাহরুখ ইসলাম।
প্রশিক্ষকগণ তাদের অভিজ্ঞতা প্রশিক্ষণার্থীগণের সাথে বিনিময় করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইম্প্যাক্ট অব “ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)”, লোকাল আইওটি রিসার্স উইথ গ্লোবাল ইম্প্যাক্টস এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট উপস্থাপন করা হয়। এই প্রশিক্ষণে রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৭০ জনের অধিক প্রশিক্ষণার্থী অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে সংযুক্ত হন।